বিদেশী দক্ষ কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য এইচ-১বি ভিসা ফি বাড়িয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে মার্কিন নিয়োগকর্তারা বছরে ১৪ বিলিয়ন বা ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অতিরিক্ত ব্যয়ের মুখোমুখি হতে পারেন। খবর এফটি।
গত শুক্রবার এক ঘোষণায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, নতুন কর্মী প্রবেশে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানিগুলোকে এইচ-১বি ভিসার আবেদনের জন্য ১ লাখ ডলার ফি দিতে হবে। বিশেষজ্ঞ বলছেন, বাড়তি ভিসা ফির কারণে বিদেশী দক্ষ পেশাজীবীনির্ভর বিভিন্ন খাত প্রভাবিত হবে।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানিতে স্থানীয় কর্মীদের নিয়োগে উৎসাহদান। ট্রাম্পের ঘোষণায় বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনের বিবেচনায় ছাড় দেয়া হতে পারে, তবে এর পরিধি কতটা হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়।
ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের (ইউএসসিআইএস) তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ১ লাখ ৪১ হাজারের বেশি নতুন এইচ-১বি ভিসা দেয়া হয়েছিল। একই মাত্রার আবেদন অব্যাহত থাকলে এবং প্রতিটির জন্য ১ লাখ ডলার করে ফি ধার্য হলে, মার্কিন কোম্পানিগুলোর বার্ষিক খরচ দাঁড়াবে কমপক্ষে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।
মার্কিন প্রযুক্তি খাতের প্রধান কেন্দ্র সিলিকন ভ্যালি ব্যাপকভাবে এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল। এর আওতায় কোম্পানিগুলো প্রতি বছর হাজার হাজার প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী ও প্রোগ্রামার নিয়োগ দিয়ে থাকে। নন-ইমিগ্র্যান্ট এ ভিসা অ্যাকাউন্টিং সংস্থা থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবা কোম্পানিসহ বিশেষায়িত শিল্প খাতেও বহুল ব্যবহৃত।
ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে এইচ-১বি গ্রাহকদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কাজ করেছেন আইটি খাতে।
গত বছর প্রায় চার লাখ এইচ-১বি আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল, যার বেশির ভাগ ছিল ভিসা নবায়ন।
মার্কিন বড় কোম্পানির হয়ে কাজ করছেন এমন আইনজীবীরা বলছেন, এইচ-১বি ভিসা ইস্যুতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আরো পরিষ্কার ব্যাখ্যার অপেক্ষায় আছেন তাদের ক্লায়েন্টরা। গত রোববার পর্যন্ত এ প্রসঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি কোম্পানিগুলো। তবে তারা প্রস্তাবিত ফির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ আনার বিষয়েও ভাবছে বলে জানা গেছে।
আইনি পরামর্শক সংস্থার হারবার্ট স্মিথ ফ্রিহিলস ক্রেমারের অংশীদার ম্যাথিউ ডান বলেন, ‘প্রশাসনিক খরচ মেটাতে ফি ধার্য করার ক্ষমতা মার্কিন নির্বাহী বিভাগের রয়েছে। কিন্তু ১ লাখ ডলার যোগ করা তাদের বিধিবদ্ধ ক্ষমতার সম্পূর্ণ বাইরে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বর্তমানে ১৩৫টির বেশি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন। বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর আরোপিত সর্বজনীন শুল্ক বৈধ কিনা সে বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের অপেক্ষায় আছেন তিনি। এর আগে দুটি নিম্ন আদালত এ পদক্ষেপকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন।